জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাস্তুচ্যুত বা গৃহহীন হওয়া মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বৈশ্বিক জলবায়ু ঝুঁকিতে পার্লামেন্টারিয়ানদের সরাসরি সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে গঠিত হয়েছে একটি বিশেষ অল-পার্টি ‘পার্লামেন্টারি ককাস’।
১৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘সোনার মানুষ সম্মেলন ২০২৬’-এর একটি বিশেষ অধিবেশনে ‘পার্লামেন্টারি ককাস অন ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড ডিসপ্লেসমেন্ট’-এর আনুষ্ঠানিক পরিচিতি এবং কৌশলগত রূপরেখা ঘোষণা করা হয়।
ককাসের মূল উদ্দেশ্য ও আন্তর্জাতিক কৌশল: অধিবেশনে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এবং ককাসের চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাংসদদের সাথে নিয়ে জলবায়ু শরণার্থী নীতিমালার ওপর গুরুত্বারোপ করেন:
- তৃণমূল ঝুঁকি চিহ্নিতকরণ ও নীতিগত সুপারিশ: নতুন এই পার্লামেন্টারি ককাসের মাধ্যমে জাতীয় সংসদের সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকার দুর্যোগপূর্ণ ও উপকূলীয় অঞ্চলের জলবায়ু ঝুঁকি চিহ্নিত করবেন। বিশেষ করে নদীভাঙন ও লবণাক্ততার কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের পুনর্বাসনে নীতিনির্ধারণী সুপারিশ ও জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দের উদ্যোগ নেবেন।
- সিওপি৩১ সম্মেলনে যৌথ কূটনীতি: ঐতিহাসিক বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণে বাংলাদেশের দায় সামান্য হলেও জলবায়ু ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকায় দেশ শীর্ষে। ককাস সদস্যরা জাতীয় স্তরের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ফোরাম এবং আসন্ন সিওপি৩১ (COP31) সম্মেলনে জলবায়ু বাস্তুচ্যুতদের নায্য অধিকার ও আন্তর্জাতিক ক্ষতিপূরণ আদায়ে সোচ্চার ভূমিকা রাখার প্রতিশ্রুতি দেন।
উপসংহার ও গ্রিনপেজ দৃষ্টিভঙ্গি: জলবায়ু পরিবর্তনজনিত স্থানান্তর বা মাইগ্রেশন এখন আর কেবল তাত্ত্বিক বিষয় নয়, এটি দেশের প্রতিটি জেলার প্রশাসনিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ।
গ্রিনপেজ মনে করে, সর্বদলীয় এই পার্লামেন্টারি ককাস কেবল বক্তব্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে সংসদে জলবায়ু সহনশীল বাজেট পাস এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনে একটি যুগান্তকারী জাতীয় আইন প্রণয়নে ভূমিকা পালন করবে।
