আগামী নভেম্বর ২০২৬-এ তুরস্কের আন্তালিয়ায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতিসংঘের ৩১তম বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন (COP31)-এর আইনি ও প্রশাসনিক ফ্রেমওয়ার্ক আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হয়েছে।
১১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন সচিবালয় (UNFCCC) ও স্বাগতিক দেশ তুরস্কের পক্ষ থেকে যৌথভাবে জানানো হয় যে, বহুল প্রতীক্ষিত ‘হোস্ট কান্ট্রি এগ্রিমেন্ট’ কার্যকর হওয়ার পর এখন বৈশ্বিক পরিবেশ ও স্বাস্থ্য আন্দোলনকে মূল মঞ্চে নিয়ে আসার প্রস্তুতি পূর্ণগতিতে শুরু হয়েছে।
চুক্তির মূল বিষয়বস্তু ও বৈশ্বিক স্বাস্থ্য এজেন্ডা: প্রাক-সম্মেলন প্রক্রিয়ায় এবার বৈশ্বিক উষ্ণায়ন এবং এর ফলে জনস্বাস্থ্যের ওপর পড়া প্রাণঘাতী প্রভাবকে শীর্ষ এজেন্ডা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে:
-
জলবায়ু সংকট ও জনস্বাস্থ্য (Climate & Health): গ্লোবাল ক্লাইমেট অ্যান্ড হেলথ অ্যালিয়েন্স এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-এর নতুন পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, অনিয়ন্ত্রিত কার্বন নিঃসরণ এবং বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে বিশ্বব্যাপী নতুন নতুন অসংক্রামক রোগ ও সংক্রামক ব্যাধি ছড়িয়ে পড়ছে। সিওপি৩১-এর মূল মঞ্চ থেকে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে আসার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর স্বাস্থ্য খাতকে জলবায়ু সহনশীল করার আহ্বান জানানো হবে।
-
অ্যাকশন প্যাক ও এনডিসি মূল্যায়ন: শিল্পোন্নত দেশগুলোর ‘জাতীয় নির্ধারিত অবদান’ বা এনডিসি (NDCs) কতটা স্বাস্থ্য-বান্ধব ও কার্বন-মুক্ত, তা মূল্যায়নের জন্য বিশেষ স্কোরকার্ড চালুর পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়েছে।
উপসংহার ও গ্রিনপেজ দৃষ্টিভঙ্গি: জলবায়ু পরিবর্তন কেবল একটি পরিবেশগত বিপর্যয় নয়, এটি মানবজাতির বেঁচে থাকার ও স্বাস্থ্যের সরাসরি অস্তিত্ব সংকট।
গ্রিনপেজ বিশ্বাস করে, তুরস্কের সিওপি৩১ সম্মেলনে শুধু আর্থিক অনুদানের খসড়ায় সীমাবদ্ধ না থেকে বিশ্বনেতাদের উচিত হবে জীবাশ্ম জ্বালানি পর্যায়ক্রমে বন্ধ করার কঠোর আইনি চুক্তি সম্পাদন করা।
