বিশ্বের জলবায়ু ব্যবস্থায় এক মারাত্মক ও নজিরবিহীন পরিবর্তনের পূর্বাভাস দিয়ে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (WMO) জানিয়েছে যে, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বিংশ শতাব্দীর পর ইতিহাসে অন্যতম বৃহত্তম ‘এল নিনো’ (El Niño) দ্রুত শক্তি সঞ্চয় করে তীব্র আকার ধারণ করছে।
এই প্রাকৃতিক জলবায়ু চক্রটি বিশ্বজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহ, অস্বাভাবিক খরা এবং চরম আবহাওয়ার ধরনকে পুরোপুরি উল্টে দিচ্ছে।
প্রভাব ও বৈশ্বিক ঝুঁকি:
বিজ্ঞানীদের সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, সামুদ্রিক উপরিভাগের তাপমাত্রা রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে, যার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ছে বিশ্বজুড়ে আঞ্চলিক আবহাওয়া ও কৃষির ওপর:
- বৃষ্টিপাত ও কৃষিতে বিপর্যয়: শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবে ভারতের গ্রীষ্মকালীন মৌসুমী বায়ু (Monsoon) এবং দক্ষিণ এশিয়ার বেশ কিছু অঞ্চলে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একইভাবে মধ্য আমেরিকা, পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জ এবং ক্রান্তীয় দক্ষিণ আমেরিকায় তীব্র খরা ও পানির সংকট দেখা দিতে পারে।
- ঝড়ের গতিপ্রকৃতি পরিবর্তন: আটলান্টিক মহাসাগরে ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় ও হ্যারিকেনের গতিপ্রকৃতিতে পরিবর্তন আসলেও এর সামগ্রিক প্রভাব বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তা ও মানবজীবনে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
উপসংহার ও গ্রিনপেজ দৃষ্টিভঙ্গি:
জলবায়ু পরিবর্তনের নিজস্ব স্বাভাবিক বৈচিত্র্য এবং মানুষের তৈরি বৈশ্বিক উষ্ণতার সংমিশ্রণে এই সুপার এল নিনো সমগ্র মানবজাতির জন্য এক বিরাট হুঁশিয়ারি। প্রকৃতি ও পৃথিবীর ভারসাম্য রক্ষায় অবিলম্বে বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণ কমানোর কঠোর নীতি বাস্তবায়নে বিশ্বনেতাদের আরও বেশি দায়িত্বশীল হওয়ার বিকল্প নেই।
