বিশ্বজুড়ে মহাসাগর, নদী এবং স্থলভাগে প্লাস্টিক ও মাইক্রোপ্লাস্টিকের ক্রমবর্ধমান আগ্রাসন রোধে একটি আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক বৈশ্বিক চুক্তি চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় শুরু হয়েছে জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচির (UNEP) বিশেষ উচ্চপর্যায়ের প্রি-সিওপি৩১ (Pre-COP31) কারিগরি সংলাপ।
৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত এই আন্তর্জাতিক বৈঠকে বিশ্বের দেড়শতাধিক দেশের পরিবেশ বিজ্ঞানী ও নীতিনির্ধারকরা অংশ নিয়ে প্লাস্টিক উৎপাদন থেকে শুরু করে এর চূড়ান্ত অপসারণ পর্যন্ত পুরো সরবরাহ শৃঙ্খলে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের জোরালো দাবি জানিয়েছেন।
বৈঠকের মূল এজেন্ডা ও বৈশ্বিক নীতিমালা: পরিবেশ বিজ্ঞানীরা তাদের গবেষণামূলক উপাত্ত তুলে ধরে দেখিয়েছেন যে, বর্তমান গতিতে প্লাস্টিক দূষণ চলতে থাকলে ২০৫০ সালের মধ্যে সমুদ্রের মাছের চেয়ে প্লাস্টিকের পরিমাণ বেশি হয়ে যাবে:
- একবারের বেশি ব্যবহার্য প্লাস্টিক নিষিদ্ধকরণ: সিঙ্গেল-ইউজ প্লাস্টিক বা একবার ব্যবহারযোগ্য পলিথিন ও প্লাস্টিক পণ্যের উৎপাদন বিশ্বব্যাপী সম্পূর্ণ বন্ধ করার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। উন্নত দেশগুলোকে প্লাস্টিক শিল্পের বিকল্প হিসেবে পরিবেশবান্ধব ও জৈব-বিয়োজ্য (Biodegradable) উপাদান উৎপাদনে বড় অংকের তহবিল বরাদ্দের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
- উন্নয়নশীল দেশের জন্য প্রযুক্তিগত সহায়তা: প্লাস্টিক দূষণের শিকার দক্ষিণ এশিয়া ও আফ্রিকার উপকূলীয় দেশগুলোতে আধুনিক রিসাইক্লিং প্ল্যান্ট এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা অবকাঠামো গড়ে তুলতে উন্নত দেশগুলোকে তাদের ঐতিহাসিক দায়িত্বের অংশ হিসেবে বিশেষ প্রযুক্তি ও আর্থিক সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
উপসংহার ও গ্রিনপেজ দৃষ্টিভঙ্গি: প্লাস্টিক দূষণ এখন কেবল পরিবেশের সৌন্দর্যহানি করছে না, বরং এটি মানবদেহ ও জলজ প্রাণীর খাদ্যচক্রের মধ্যে ঢুকে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।
গ্রিনপেজ মনে করে, আসন্ন সিওপি৩১ সম্মেলনের আগে এই বৈশ্বিক প্লাস্টিক চুক্তি সই ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে শিল্পোন্নত দেশগুলোকে তাদের বাণিজ্যিক স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
