দেশের শহর ও গ্রাম অঞ্চলের অপরিকল্পিত বসতি স্থাপন, ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট ঝুঁকি মোকাবিলায় একটি সুসংহত ও টেকসই আবাসন নীতিমালা গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে গণভবনে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমান দেশের প্রতিটি সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা এবং জেলা শহরের জন্য আধুনিক ও জলবায়ু সহনশীল পৃথক মাস্টারপ্ল্যান (Master Plan) দ্রুত চূড়ান্ত করার কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন।
পরিবেশ সুরক্ষা এবং কৃষিজমি সংরক্ষণের বিষয়টি মাথায় রেখে এই নতুন আবাসন রূপরেখা প্রণয়ন করা হচ্ছে।
মূল এজেন্ডা ও কৌশলগত পরিকল্পনা: স্থানীয় সরকার ও গৃহায়ন খাতের সমন্বয়ে তৈরি হতে যাওয়া এই মাস্টারপ্ল্যানে বেশ কিছু যুগান্তকারী বিষয় যুক্ত করা হয়েছে:
- কৃষিজমি ও জলাধার সুরক্ষা: অপরিকল্পিত ইমারত নির্মাণ এবং যত্রতত্র বহুতল ভবন গড়ে তোলার কারণে দেশের উর্বর কৃষিজমি এবং প্রাকৃতিক জলাধারগুলো দ্রুত সংকুচিত হয়ে পড়ছে। নতুন এই মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী, যত্রতত্র বসতি স্থাপন কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে এবং প্রতিটি এলাকায় পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, খেলার মাঠ ও সবুজ বেষ্টনী রাখা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।
- জলবায়ু ও দুর্যোগ সহনশীল ঘরবাড়ি: উপকূলীয় অঞ্চলে জলোচ্ছ্বাস-ঝড় এবং উত্তরাঞ্চলে খরা ও বন্যা সহনশীল টেকসই আবাসন নির্মাণের জন্য কম খরচে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কম আয়ের মানুষ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য নিরাপদ ও সাশ্রয়ী মূল্যে আবাসন নিশ্চিত করার দীর্ঘমেয়াদী রূপরেখা নিয়ে কাজ চলছে।
উপসংহার ও গ্রিনপেজ দৃষ্টিভঙ্গি: অনিয়ন্ত্রিত নগরায়ন এবং অপরিকল্পিত বসতি দেশের পরিবেশগত ভারসাম্যকে মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত করছে।
গ্রিনপেজ বিশ্বাস করে, প্রতিটি শহরের জন্য সময়োপযোগী এই মাস্টারপ্ল্যানগুলোর কঠোর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে তবেই ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য জনপদগুলো জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি থেকে রক্ষা পাবে।
