আসন্ন শুষ্ক মৌসুমে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে বায়ুদূষণ এবং নির্মাণকাজের ধুলাবালি আশঙ্কাজনক হারে বাড়ার আশঙ্কায় আবাসন খাতকে সতর্ক করেছে সরকার।
১১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ঢাকার পরিবেশ ভবনে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (REHAB)-এর নেতৃবৃন্দের সাথে আয়োজিত এক দ্বিপক্ষীয় মতবিনিময় সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু আবাসন শিল্পে পোড়ামাটির ইটের বিকল্প হিসেবে শতভাগ পরিবেশবান্ধব ‘ইকো-ব্লক’ বা কংক্রিট ফাঁপা ব্লক ব্যবহারের কড়া তাগিদ দিয়েছেন।
মূল আলোচ্য বিষয় ও পরিবেশগত আইনি নির্দেশনা: সভায় নির্মাণ খাত থেকে সৃষ্ট ধুলিকণা (Dust Pollution) ও কণা দূষণ (PM2.5) নিয়ন্ত্রণে বেশ কিছু কঠোর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়:
-
ইকো-ব্লকের ব্যবহার ও বায়ুদূষণ রোধ: মন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, চিরাচরিত ইটভাটার ধোঁয়া এবং উড়া ধুলোর কারণে শীতকালে ঢাকার বাতাস মারাত্মক ‘অস্বাস্থ্যকর’ রূপ নেয়। তাই সরকারি ভবনের পাশাপাশি বেসরকারি আবাসন প্রকল্পগুলোতেও বাধ্যতামূলকভাবে পোড়ামাটির ইটের ব্যবহার কমিয়ে ইকো-ব্লক ব্যবহারের সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করতে রিহ্যাবকে নির্দেশ দেওয়া হয়।
-
নির্মাণস্থলে এনভায়রনমেন্টাল কমপ্লায়েন্স: নির্মাণাধীন ভবনগুলোর চারপাশে বেষ্টনী বা কভারিং দেওয়া, খোলা স্থানে বালু-সিমেন্ট ঢেকে রাখা এবং নিয়মিত পানি ছিটানোর মতো নিয়ম মেনে চলতে বলা হয়েছে। নিয়ম লঙ্ঘনকারী ডেভেলপার কোম্পানির বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদপ্তরের মাধ্যমে মোবাইল কোর্ট ও জরিমানা পরিচালনার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
উপসংহার ও গ্রিনপেজ দৃষ্টিভঙ্গি: নগরায়ণ স্থবির করা সম্ভব নয়, তবে পরিবেশ বাঁচিয়ে অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা নিশ্চিতভাবেই সম্ভব। গ্রিনপেজ মনে করে, ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়া বন্ধে আবাসন খাতে পোড়ামাটির ইটের পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির সার্বিক প্রসারই পারে আমাদের নগরগুলোকে শীতকালীন তীব্র বায়ুদূষণের হাত থেকে রক্ষা করতে।
