27 C
ঢাকা, বাংলাদেশ
[bam1012Thursdayam_315910Asia/Dhaka] | [Asia/Dhaka1012Thursday593712_29am31Asia/Dhaka] খ্রিস্টাব্দ | [bam1012Thursdayam_29am31Asia/Dhaka] বঙ্গাব্দ
গ্রীন পেইজ
বিশ্ব জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় বেসরকারি অর্থায়ন ও অধিকারভিত্তিক সংরক্ষণে নতুন জোর: কুনমিং-মন্ট্রিয়াল ফ্রেমওয়ার্ক বাস্তবায়নে বিশ্বসম্প্রদায়ের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ
আন্তর্জাতিক পরিবেশ পরিবেশ রক্ষা

বিশ্ব জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় বেসরকারি অর্থায়ন ও অধিকারভিত্তিক সংরক্ষণে নতুন জোর: কুনমিং-মন্ট্রিয়াল ফ্রেমওয়ার্ক বাস্তবায়নে বিশ্বসম্প্রদায়ের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ

বিশ্বজুড়ে জীববৈচিত্র্য ক্ষয়, বাস্তুতন্ত্রের অবনতি এবং পরিবেশগত ন্যায়বিচারের প্রশ্নে নতুন করে সতর্কবার্তা দিয়েছে জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি (UNEP)। ২৬ ও ২৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ইয়েরেভান, আর্মেনিয়ায় অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ জীববৈচিত্র্য সম্মেলন COP17-এর হালনাগাদ কার্যক্রমে UNEP জানায়, প্রকৃতি এখন এক গভীর সংকটে রয়েছে।

বিশ্বের আনুমানিক ৮০ লাখ প্রজাতির মধ্যে প্রায় ১০ লাখ বিলুপ্তির ঝুঁকিতে আছে, আর বাস্তুতন্ত্রের অবক্ষয় ইতিমধ্যে বিশ্বের প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষের কল্যাণকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এ প্রেক্ষাপটে বেসরকারি অর্থায়নের নতুন যন্ত্র ব্যবহার, অধিকারভিত্তিক সংরক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক জবাবদিহি জোরদারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

UNEP-এর হালনাগাদে বলা হয়, COP17 প্রথমবারের মতো কুনমিং-মন্ট্রিয়াল গ্লোবাল বায়োডাইভার্সিটি ফ্রেমওয়ার্কের অর্ধমেয়াদি অগ্রগতি পর্যালোচনা করছে। ২০২২ সালে গৃহীত ওই বৈশ্বিক কাঠামোর লক্ষ্য ছিল ২০৩০ সালের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত স্থল ও সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের ৩০ শতাংশ সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধার করা, কিন্তু সেই পথে প্রয়োজনীয় গতি এখনো যথেষ্ট নয়। তাই ‘প্রতিশ্রুতি থেকে বাস্তব পদক্ষেপে’ যাওয়ার চাপ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি।

Finance and Biodiversity Day: অর্থায়নকে সামনে আনার নতুন ধাপ:
২৬ অক্টোবর COP17-এ অনুষ্ঠিত তৃতীয় “Finance and Biodiversity Day”-এ UNEP জীববৈচিত্র্য রক্ষায় আর্থিক খাতকে সক্রিয়ভাবে যুক্ত করার আহ্বান জানায়। আলোচনায় বলা হয়, প্রকৃতি-সংরক্ষণে কেবল সরকারি বাজেট যথেষ্ট নয়; বেসরকারি বিনিয়োগ, প্রভাবভিত্তিক অর্থায়ন, ঝুঁকি-সংবেদনশীল আর্থিক সরঞ্জাম এবং দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব প্রয়োজন।

UNEP-এর অবস্থান ছিল পরিষ্কার: জীববৈচিত্র্য রক্ষায় অর্থায়নকে এমনভাবে গঠন করতে হবে যাতে তা শুধু বড় সংরক্ষিত এলাকা বা করপোরেট প্রকল্পে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং স্থানীয় কমিউনিটি, দুর্বল জনগোষ্ঠী, পাহাড়ি ও উপকূলীয় বাস্তুতন্ত্র এবং ক্ষুদ্র সংরক্ষণ উদ্যোগেও পৌঁছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে প্রকৃতি ধ্বংসে প্রতি এক ডলারের বিপরীতে সংরক্ষণে অর্থায়ন অনেক কম; তাই অর্থপ্রবাহের দিকও পাল্টাতে হবে।

অধিকারভিত্তিক সংরক্ষণ: ন্যায্যতার প্রশ্নকে কেন্দ্র করে নতুন বার্তা:
২৩ অক্টোবর UNEP ও অংশীদাররা “Strengthening Rights-Based Biodiversity Action through Accountability and Justice” শীর্ষক একটি অফিসিয়াল সাইড ইভেন্টে স্পষ্ট করে দেয় যে জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ে নারী, শিশু, আদিবাসী জনগোষ্ঠী এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের ওপর। তাই সংরক্ষণকে মানবাধিকার, জবাবদিহি ও ন্যায্যতার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে।

আলোচনায় UN Special Rapporteur on the Human Right to a Clean, Healthy and Sustainable Environment, Astrid Puentes Riaño, পরিবেশগত মানবাধিকার রক্ষাকারীদের বিরুদ্ধে হুমকির ক্ষেত্রে “zero-tolerance” নীতির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

অন্যদিকে আন্তর্জাতিক আদিবাসী ফোরাম ও নারী ককাসের প্রতিনিধিরা মনে করিয়ে দেন, স্থানীয় পর্যায়ের কমিউনিটি ছাড়া কোনো আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্তই দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর হয় না। তাই নারী, আদিবাসী জনগোষ্ঠী ও যুবাদের কেবল পরামর্শদাতা নয়, সিদ্ধান্তগ্রহণের অংশীদার হিসেবে দেখতে হবে।

মেরিন ও ক্রস-বর্ডার সংরক্ষণ: অঞ্চলভিত্তিক সহযোগিতার গুরুত্ব:
UNEP-এর ২৩ অক্টোবরের আরেকটি আপডেটে বলা হয়েছে, সমুদ্রতীরবর্তী ও আন্তঃসীমান্ত জীববৈচিত্র্য রক্ষায় দেশগুলোর মধ্যে সমন্বিত কাজ জরুরি।

Regional Seas Conventions and Action Plans দেখাচ্ছে যে ম্যানগ্রোভ, সীগ্রাস, প্রবালপ্রাচীর, মৎস্যসম্পদ এবং অভিবাসী প্রজাতি রক্ষায় সীমানা-অতিক্রমী সহযোগিতা সবচেয়ে কার্যকর কৌশলগুলোর একটি।

এই অংশে UNEP উল্লেখ করেছে যে, ম্যানগ্রোভ ও সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধার, সংরক্ষিত এলাকা সম্প্রসারণ, অভিবাসী প্রজাতির সুরক্ষা এবং উচ্চসাগর-সংক্রান্ত BBNJ Agreement-এর সঙ্গে সমন্বয় ভবিষ্যৎ সংরক্ষণনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। অর্থাৎ, প্রকৃতি রক্ষার চ্যালেঞ্জ এখন আর একক দেশের নয়; এটি একটি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক দায়িত্ব।

কুনমিং-মন্ট্রিয়াল ফ্রেমওয়ার্কের অর্ধপথে বিশ্ব কোথায় দাঁড়িয়ে:
UNEP বলছে, ২০৩০ সালের মধ্যবর্তী সময়ে এসে বিশ্বকে এখনই হিসাব করতে হবে—কোন দেশ কতটা এগিয়েছে, কোথায় ঘাটতি রয়ে গেছে, এবং কোন নীতিতে পরিবর্তন দরকার।

Yerevan Pathway নামে একটি ত্বরিত কর্মপথ নিয়ে আলোচনা চলছে, যা দেশগুলোকে দ্রুততর বাস্তবায়নের দিকে নিতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, যদি এই প্রক্রিয়ায় অর্থায়ন, ন্যায়বিচার ও স্থানীয় অংশগ্রহণকে যথাযথভাবে যুক্ত না করা হয়, তাহলে আবারও উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য কাগুজে প্রতিশ্রুতিতেই আটকে যাবে।

বিশ্বব্যাপী গৃহীত ২৩টি লক্ষ্যের মধ্যে ৩০ শতাংশ স্থল ও সমুদ্র সংরক্ষণ, অবক্ষয়িত বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধার, এবং জীববৈচিত্র্য-সংবেদনশীল অর্থনৈতিক ব্যবস্থার দিকে যাত্রা এখন বড় পরীক্ষার মুখে। UNEP-এর মতে, শুধু সংরক্ষণের ঘোষণা নয়, প্রয়োজন নীতি, অর্থায়ন, জবাবদিহি এবং সামাজিক ন্যায্যতার সমন্বয়।

উপসংহার ও গ্রিনপেজ দৃষ্টিভঙ্গি:
গ্রিনপেজ মনে করে, ২৭ অক্টোবর ২০২৬-এর UNEP আপডেট বিশ্বকে একটি কঠোর বাস্তবতা মনে করিয়ে দিচ্ছে—জীববৈচিত্র্য রক্ষার সময় এখনই। বেসরকারি অর্থায়নের সঠিক ব্যবহার, অধিকারভিত্তিক সংরক্ষণ, নারী-আদিবাসী-যুবদের সম্পৃক্ততা এবং আন্তঃদেশীয় সহযোগিতা ছাড়া কুনমিং-মন্ট্রিয়াল ফ্রেমওয়ার্কের লক্ষ্য পূরণ কঠিন। তাই বিশ্বসম্প্রদায়কে এখন প্রতিশ্রুতি নয়, দৃশ্যমান কর্মে নামতে হবে।

“Green Page” কে সহযোগিতার আহ্বান

সম্পর্কিত পোস্ট

Green Page | Only One Environment News Portal in Bangladesh
Bangladeshi News, International News, Environmental News, Bangla News, Latest News, Special News, Sports News, All Bangladesh Local News and Every Situation of the world are available in this Bangla News Website.

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা ধরে নিচ্ছি যে আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন, তবে আপনি ইচ্ছা করলেই স্কিপ করতে পারেন। গ্রহন বিস্তারিত