29 C
ঢাকা, বাংলাদেশ
[bam1012Wednesdayam_313810Asia/Dhaka] | [Asia/Dhaka1012Wednesday382112_28am31Asia/Dhaka] খ্রিস্টাব্দ | [bam1012Wednesdayam_28am31Asia/Dhaka] বঙ্গাব্দ
গ্রীন পেইজ
জাহাজভাঙা শিল্পে পরিবেশগত ও নিরাপত্তা ছাড়পত্র শিথিলের ঝুঁকিতে উপকূলীয় ইকোসিস্টেম
পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবেশগত অপরাধ

জাহাজভাঙা শিল্পে পরিবেশগত ও নিরাপত্তা ছাড়পত্র শিথিলের ঝুঁকিতে উপকূলীয় ইকোসিস্টেম: কঠোর তদারকি ও সবুজ রূপান্তরের দাবিতে জোরালো সতর্কতা

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কাঠামোতে জাহাজভাঙা শিল্প দীর্ঘদিন ধরে একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে বিবেচিত হলেও এর পরিবেশগত, শ্রমিক-নিরাপত্তা এবং উপকূলীয় বাস্তুতন্ত্রের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ক্রমেই আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

২৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত দ্য ডেইলি স্টারের একটি সম্পাদকীয়তে শিল্পটির পরিবেশগত ছাড়পত্র প্রক্রিয়া শিথিল করার ঝুঁকি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। সম্পাদকীয়টিতে বলা হয়, যেহেতু জাহাজভাঙা শিল্প নিজেই একটি স্বীকৃতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ ও দূষণসৃষ্টিকারী খাত, তাই এই শিল্পে নিয়ন্ত্রণ শিথিল করা মানে শ্রমিক, উপকূলীয় পরিবেশ এবং সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য—তিনটিকেই একসঙ্গে বিপদের মুখে ঠেলে দেওয়া।

সীতাকুণ্ড উপকূলে কেন্দ্রীভূত এই শিল্পে বছরের পর বছর ধরে পুরোনো জাহাজ কাটার সময় অ্যাসবেস্টস, ভারী ধাতু, তেল, বিষাক্ত রঙ, ফ্লোরিনযুক্ত উপাদান ও অন্যান্য বিপজ্জনক রাসায়নিক সমুদ্রে, মাটিতে ও আশপাশের জনবসতিতে ছড়িয়ে পড়ছে।

পরিবেশবিদ ও সমুদ্রবিজ্ঞানীদের মতে, এসব বর্জ্য উপকূলের প্রাকৃতিক ভারসাম্যকে দুর্বল করে, প্যারাবন, মাছের প্রজনন ক্ষেত্র, জলজ প্রাণী ও তীরবর্তী কৃষিজমিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই তারা মনে করেন, ছাড়পত্র সহজ করার পরিবর্তে এ খাতে কঠোর তদারকি আরও বাড়ানো উচিত।

শিল্পের পরিবেশগত ঝুঁকি ও নীতিগত উদ্বেগ: সম্পাদকীয়তে এবং সংশ্লিষ্ট পরিবেশগত আলোচনায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকির দিক তুলে ধরা হয়, যা জাহাজভাঙা শিল্পকে শুধু একটি শিল্পখাত নয়, বরং এক বড় পরিবেশগত নীতিগত প্রশ্নে পরিণত করেছে।

  • বিষাক্ত বর্জ্য ও সমুদ্রদূষণ:
    পুরোনো জাহাজে থাকা অ্যাসবেস্টস, সীসা, পারদ, তামা, পলিক্লোরিনেটেড উপাদান এবং নানা ধরনের শিল্পবর্জ্য ভেঙে ফেলার সময় সরাসরি পানিতে বা তীরে ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে সাগরের তলদেশে জমে থাকা বিষাক্ত পদার্থ মাছ, কাঁকড়া, শামুক, জলজ উদ্ভিদ ও উপকূলীয় খাদ্যশৃঙ্খলে প্রবেশ করে।
  • কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তাহীনতা:
    জাহাজভাঙা ইয়ার্ডে শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ সরঞ্জাম, প্রশিক্ষণ, গ্যাস-পরীক্ষা, আগুন-নিরোধক ব্যবস্থা ও জরুরি চিকিৎসা সহায়তা অনেক ক্ষেত্রেই অপর্যাপ্ত। এতে দুর্ঘটনা, শ্বাসকষ্ট, ত্বকের রোগ, বিষক্রিয়া এবং প্রাণহানির ঝুঁকি বাড়ে। সম্পাদকীয়তে এই শিল্পকে “occupationally and environmentally hazardous” হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
  • উপকূলীয় বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতি:
    সীতাকুণ্ড ও আশপাশের উপকূলীয় এলাকায় জাহাজ কাটার ফলে মাটি ভারী ধাতুতে দূষিত হয়, ম্যানগ্রোভ ও তীররেখার ক্ষয় ত্বরান্বিত হয়, এবং স্থানীয় মাছধরা ও কৃষিনির্ভর জীবিকা ঝুঁকিতে পড়ে। পরিবেশবিদরা বলছেন, এ ধরনের দূষণ একবার জমে গেলে তা সহজে ফিরে আসে না।
  • পরিবেশ ছাড়পত্রের শিথিলতার আশঙ্কা:
    শিল্পমহল দীর্ঘ অনুমোদন প্রক্রিয়া ও ব্যয়বহুল মানদণ্ডকে উৎপাদনের অন্তরায় হিসেবে দেখালেও পরিবেশবিদরা মনে করেন, নিরাপত্তা ও পরিবেশ সংক্রান্ত বিধি শিথিল হলে এর প্রকৃত মূল্য দিতে হবে শ্রমিক ও স্থানীয় জনগণকে। তাই ছাড়পত্র দ্রুত করার বদলে কার্যকর, জবাবদিহিমূলক তদারকিই হওয়া উচিত।

আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও বাংলাদেশের দায়বদ্ধতা: জাহাজভাঙা শিল্প আন্তর্জাতিকভাবে একটি সংবেদনশীল বিষয়। ‘হংকং আন্তর্জাতিক কনভেনশন ফর দ্য সেফ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টালি সাউন্ড রিসাইক্লিং অফ শিপস’ এবং বাসেল কনভেনশনের মতো চুক্তিগুলোর মূল উদ্দেশ্য হলো বিপজ্জনক জাহাজ রিসাইক্লিংকে নিয়ন্ত্রিত, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব করা। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশ যদি আন্তর্জাতিক বাজারে টেকসই শিপব্রেকিং হাব হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রাখতে চায়, তবে কাগুজে মানদণ্ড নয়, বাস্তবায়ন-ক্ষম সবুজ নীতিমালাই দরকার।

এই প্রেক্ষাপটে ‘গ্রিন ইয়ার্ড’ বা নিরাপদ শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডে রূপান্তর বাধ্যতামূলক করার দাবিও সামনে এসেছে। এতে বিষাক্ত বর্জ্য অপসারণ, শ্রমিক সুরক্ষা, ঝুঁকিপূর্ণ উপাদানের ট্র্যাকিং, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, অগ্নি-নিরাপত্তা এবং জরুরি সাড়া ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে হবে। কিন্তু সেই রূপান্তর যদি না হয়, তাহলে নীতিমালার শিথিলতা শিল্পটিকে আরও অনিয়ন্ত্রিত করে তুলবে।

অর্থনীতি বনাম পরিবেশ: একটি জটিল ভারসাম্য: শিল্পমহল এই খাতকে দেশের ভারী শিল্পের কাঁচামাল সরবরাহকারী গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে দেখলেও পরিবেশবিদরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, উন্নয়ন ও মুনাফা কখনোই স্থায়ী পরিবেশগত ক্ষতির বিনিময়ে টেকসই হতে পারে না। বাংলাদেশে জাহাজভাঙা শিল্পের অর্থনৈতিক অবদান থাকলেও এর বহির্জাত ক্ষতি—দূষণ, স্বাস্থ্যঝুঁকি, কৃষিজমির ক্ষতি, সমুদ্রজীবনের অবনতি এবং উপকূলীয় জীবিকার সংকট—অনেক সময় হিসাবের বাইরে থেকে যায়।

তাদের মতে, কেবল অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করলেই শিল্পের দক্ষতা বাড়ে না; বরং এতে অনিয়ম, জবাবদিহিহীনতা এবং দুর্ঘটনার প্রবণতা বাড়তে পারে। তাই আধুনিকায়ন মানে নিয়ন্ত্রণ কমানো নয়, বরং প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা, নিয়মিত নিরীক্ষা এবং বাধ্যতামূলক পরিবেশ ব্যবস্থাপনা চালু করা।

উপসংহার ও গ্রিনপেজ দৃষ্টিভঙ্গি: গ্রিনপেজ মনে করে, জাহাজভাঙা শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হলে পরিবেশগত দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। এই শিল্পে ছাড়পত্র শিথিল করলে তা শুধু একটি খাত নয়, উপকূলীয় সমুদ্রপরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও শ্রমিকস্বাস্থ্য—সবকিছুকেই হুমকির মুখে ফেলবে।

তাই বাংলাদেশকে এখনই কঠোর নীতিমালা, কার্যকর নজরদারি এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ‘সবুজ শিপব্রেকিং’ মডেলের দিকে অগ্রসর হতে হবে। উন্নয়ন তখনই অর্থবহ, যখন তা মানুষের জীবন, শ্রম ও প্রকৃতি—সবকিছুর সুরক্ষা নিশ্চিত করে।

“Green Page” কে সহযোগিতার আহ্বান

সম্পর্কিত পোস্ট

Green Page | Only One Environment News Portal in Bangladesh
Bangladeshi News, International News, Environmental News, Bangla News, Latest News, Special News, Sports News, All Bangladesh Local News and Every Situation of the world are available in this Bangla News Website.

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা ধরে নিচ্ছি যে আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন, তবে আপনি ইচ্ছা করলেই স্কিপ করতে পারেন। গ্রহন বিস্তারিত