বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ এবং প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (Ecologically Critical Area) হিসেবে ঘোষিত সেন্ট মার্টিন্সে আইন অমান্য করে নির্বিচারে কেয়া বন ও নারকেল গাছ কেটে একের পর এক রিসোর্ট ও স্থাপনা নির্মাণের হিড়িক পড়েছে।
পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ও উচ্চ আদালতের কঠোর নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও একশ্রেণির প্রভাবশালী ব্যক্তি ও অসাধু চক্র দ্বীপটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও অনন্য জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করে চলেছে, যা দ্বীপটির অস্তিত্বকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।
অবৈধ নির্মাণ ও পরিবেশগত ধ্বংসযজ্ঞ: প্রশাসনের নজরদারি এড়াতে দ্বীপের কোনাপাড়া ও দক্ষিণ পাড়ার বিভিন্ন এলাকায় টিনের বেড়া দিয়ে ভেতরে গোপনে ভারী নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে:
-
কেয়া বন ও প্রবাল নিধন: দ্বীপের প্রাকৃতিক বেষ্টনী এবং কেয়া ফল উৎপাদন ও চারা তৈরির সংরক্ষিত এলাকাগুলো পরিষ্কার করে নতুন আবাসিক হোটেল ও কটেজ তোলা হচ্ছে। এছাড়া সৈকত থেকে অবৈধভাবে বালি ও চুনাপাথর তুলে তা নির্মাণকাজে ব্যবহার করার চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
-
পরিবেশ অধিদপ্তরের পুনরুদ্ধার উদ্যোগ বনাম দখলদারিত্ব: একদিকে পরিবেশ অধিদপ্তর যখন সৈকত ও বালিয়াড়ি রক্ষায় কেয়া বন সৃজন ও সম্প্রসারণের জন্য কেয়া ফল থেকে চারা উৎপাদনের মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছে, ঠিক তখনই অন্যদিকে প্রভাবশালীরা রাতের আঁধারে কেয়া গাছ কেটে দ্বীপের ইকোসিস্টেম ধ্বংস করছে।
উপসংহার ও গ্রিনপেজ দৃষ্টিভঙ্গি: সেন্ট মার্টিনের মতো স্পর্শকাতর সামুদ্রিক ও স্থলজ বাস্তুতন্ত্রকে বাঁচিয়ে রাখতে কেবল নিষেধাজ্ঞা জারি করলেই চলবে না, বরং মাঠপর্যায়ে কঠোর প্রশাসনিক নজরদারি ও জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন অত্যন্ত জরুরি।
গ্রিনপেজ বিশ্বাস করে, দ্রুত অবৈধ স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করে স্থানীয় জীববৈচিত্র্য পুনরুদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে খুব শীঘ্রই মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে এই অনন্য প্রবাল দ্বীপটি।
