বাংলাদেশের অতিসংবেদনশীল প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্র ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সরাসরি অংশগ্রহণে ১২টি পরিবেশবান্ধব কমিউনিটি-লেড প্রকল্প চালুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
১৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) বাংলাদেশ এবং স্থানীয় বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোর যৌথ উদ্যোগে এই কর্মসূচিগুলোর জন্য চূড়ান্ত আর্থিক অনুদান অনুমোদন দেওয়া হয়। স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণের লক্ষ্য নিয়ে এই প্রকল্পগুলো ডিজাইন করা হয়েছে।
প্রকল্পের পরিধি ও কৌশলগত অঞ্চলসমূহ: একটি উন্মুক্ত ও প্রতিযোগিতামূলক মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্বাচিত এই প্রকল্পগুলো দেশের প্রধান প্রধান বাস্তুসংস্থান সংকটাপন্ন এলাকায় কাজ করবে:
- কৌশলগত ভৌগোলিক ক্ষেত্র: বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন, কক্সবাজার-টেকনাফ উপকূলীয় বনাঞ্চল, প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন, হাকালুকি হাওর, টাঙ্গুয়ার হাওর, পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং উত্তরবঙ্গের বরেন্দ্র অঞ্চলের সংবেদনশীল এলাকায় প্রকল্পগুলো পরিচালিত হবে।
- কমিউনিটিভিত্তিক সংরক্ষণ মডেল: কেবল উপর থেকে চাপিয়ে দেওয়া নীতি নয়, বরং হাওর ও বনাঞ্চলের স্থানীয় জেলে, কৃষক ও নৃগোষ্ঠীর প্রথাগত জ্ঞান ব্যবহার করে মাছের অভয়াশ্রম তৈরি, ম্যানগ্রোভ পুনর্গঠন এবং জলবায়ু-সহনশীল বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থা করা হবে।
উপসংহার ও গ্রিনপেজ দৃষ্টিভঙ্গি: প্রকৃতি সংরক্ষণে স্থানীয় মানুষকে শত্রু না বানিয়ে বরং তাদের রক্ষক হিসেবে গড়ে তোলাই টেকসই পরিবেশ ব্যবস্থাপনার মূল চাবিকাঠি।
গ্রিনপেজ বিশ্বাস করে, ইউএনডিপির এই স্থানীয় প্রকল্পগুলো সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে তা জলবায়ু পরিবর্তনের চরম ধাক্কা সহ্য করতে থাকা বাংলাদেশের হাওর ও উপকূলীয় ইকোসিস্টেম পুনরুজ্জীবনে অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে।
