প্লাস্টিক বর্জ্য কমাতে বিশ্বজুড়ে রিসাইক্লিং বা প্লাস্টিক পুনরুৎপাদনের ওপর ব্যাপক জোর দেওয়া হচ্ছে। তবে ২০২৬ সালের মে মাসে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO) একটি চাঞ্চল্যকর ও সতর্কতামূলক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
তাদের মতে, সঠিক বৈজ্ঞানিক নীতিমালা এবং কঠোর তদারকি ছাড়া খাদ্য প্যাকেজিংয়ে রিসাইকেল করা প্লাস্টিকের ব্যবহার মানুষের স্বাস্থ্যকে এক ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
রাসায়নিকের অনুপ্রবেশ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি: FAO-এর খাদ্য নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের মতে, প্লাস্টিক যখন বারবার রিসাইকেল করা হয়, তখন তার আণবিক গঠন দুর্বল হয়ে পড়ে।
এর ফলে প্লাস্টিকের মধ্যে থাকা ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান, যেমন থ্যালেটস (Phthalates) এবং বিসফেনল-এ (BPA), খুব সহজেই প্যাকেটের ভেতরে থাকা খাবারের সাথে মিশে যেতে পারে (Chemical Migration)।
- সংদূষণ (Contamination): অনেক সময় ডাস্টবিন বা হাসপাতাল থেকে সংগৃহীত প্লাস্টিক বর্জ্য ভালোভাবে জীবাণুমুক্ত না করেই সাধারণ রিসাইক্লিং প্রক্রিয়ায় খাদ্য পাত্র বা বোতল তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে।
- দীর্ঘমেয়াদী রোগ: এই দূষিত প্লাস্টিকের সংস্পর্শে আসা খাদ্য গ্রহণের ফলে মানুষের হরমোনজনিত সমস্যা, প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস এবং ক্যান্সারের মতো মরণব্যাধির ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে।
বাজারের আকার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার ভূমিকা: বিশ্বব্যাপী খাদ্য প্যাকেজিংয়ের বাজার ২০২৪ সালের ৫০৫ বিলিয়ন ডলার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০৩০ সালের মধ্যে ৮১৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই বিশাল বাজারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে FAO এবং ইউরোপীয় কমিশন যৌথভাবে নতুন গাইডলাইন তৈরি করছে। তারা সুপারিশ করেছে যে, খাদ্যের সংস্পর্শে আসা প্লাস্টিকের ক্ষেত্রে কেবল ‘ফুড-গ্রেড’ এবং শতভাগ ট্র্যাক করা সম্ভব (Traceable) এমন উপাদানই ব্যবহার করা যাবে।
একটি সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে আমরা যেন আরেকটি বড় স্বাস্থ্য সংকট তৈরি না করি। রিসাইক্লিং ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে কাচ, কাগজ বা বাঁশের তৈরি পরিবেশ-বান্ধব প্যাকেজিংয়ের দিকে আমাদের দ্রুত মনোযোগ দেওয়া উচিত।
