বিশ্বজুড়ে পালিত আন্তর্জাতিক দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত এক যৌথ বৈশ্বিক মূল্যায়ন প্রতিবেদনে বিশ্ববাসীকে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচি (UNEP) এবং বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (WMO)।
১৩ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে সুইজারল্যান্ডের জেনেভা থেকে প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিশ্বজুড়ে অনিয়মিত তাপপ্রবাহ, অস্বাভাবিক সুপার এল নিনোর প্রভাব এবং অতিবৃষ্টিজনিত বন্যা ও খরার বারrepeated ফ্রিকোয়েন্সি বিগত যেকোনো সময়ের চেয়ে বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রতিবেদনের মূল উপাত্ত ও আন্তর্জাতিক তাগিদ: প্রতিবেদনে বিশ্বনেতাদের আন্তর্জাতিক জলবায়ু নীতিমালার টেবিলে জরুরি আর্থিক এবং আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য জোর আহ্বান জানানো হয়েছে:
- ক্ষতিগ্রস্ত রাষ্ট্রসমূহের ওপর চরম অর্থনৈতিক চাপ: এশিয়া ও আফ্রিকার উদীয়মান অর্থনীতিগুলোতে আবহাওয়াভিত্তিক দুর্যোগের কারণে বার্ষিক মোট জিডিপির (GDP) একটি বড় অংশ অবকাঠামোগত পুনর্নির্মাণেই ব্যয় হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও দারিদ্র্য দূরীকরণের মতো টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs) অর্জন মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে।
- সিওপি৩১-এর আগে বৈশ্বিক সতর্কতা: আগামী মাসে তুরস্কের আন্তালিয়ায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলন সিওপি৩১-এর আগে জলবায়ু ঝুঁকি হ্রাসের এই ডেটা আন্তর্জাতিক নেগোশিয়েটরদের জন্য এক কড়া সতর্কবার্তা। শিল্পোন্নত দেশগুলোর কার্বন নিঃসরণ হ্রাস এবং জলবায়ু ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোতে সরাসরি ক্ষতিপূরণ তহবিল ছাড়ের দাবি এই দিবসে পুনরুচ্চারিত করা হয়।
উপসংহার ও গ্রিনপেজ দৃষ্টিভঙ্গি:
আন্তর্জাতিক দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস দিবস পালনের আসল সাফল্য নির্ভর করে বৈশ্বিক স্তরে কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করার ওপর।
গ্রিনপেজ বিশ্বাস করে, প্রতিটি আন্তর্জাতিক ঘোষণা ও দিবস পালনকে বাস্তবভিত্তিক পরিবেশগত পদক্ষেপে রূপান্তর করতে পারলেই কেবল ধরিত্রীকে নিরাপদ রাখা সম্ভব।
