বিশ্বজুড়ে ত্বরান্বিত জলবায়ু সংকট এবং জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের হাত থেকে ধরিত্রীকে রক্ষায় এক ঐতিহাসিক ও কঠোর যৌথ অবস্থানের প্রস্তুতি নিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU)।
আগামী ১২ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে লুক্সেমবার্গে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ‘এনভায়রনমেন্ট কাউন্সিল’ (Environment Council)-এর বৈঠককে সামনে রেখে ৯ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ইউরোপীয় কমিশনের পক্ষ থেকে একটি সুনির্দিষ্ট ও উচ্চাভিলাষী নীতিগত খসড়া প্রকাশ করা হয়েছে।
এই নীতিমালার মূল লক্ষ্য হলো আসন্ন জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলন ‘সিওপি৩১’ (COP31) এবং জীববৈচিত্র্য সম্মেলনে বৈশ্বিক প্রতিশ্রুতিগুলোকে বাস্তবে রূপ দেওয়া।
কৌশলের মূল এজেন্ডা ও আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা: ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর পরিবেশ ও জলবায়ু মন্ত্রীদের এই বৈঠকে যে বিষয়গুলো প্রধান এজেন্ডা হিসেবে স্থান পাচ্ছে:
- জীবাশ্ম জ্বালানি পর্যায়ক্রমে বর্জন: প্যারিস চুক্তির লক্ষ্যমাত্রা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণ হ্রাসের গতি আরও বাড়াতে হবে। বিশেষ করে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করা, শক্তি দক্ষতা (Energy Efficiency) বাড়ানো এবং নবায়নযোগ্য পরিচ্ছন্ন জ্বালানির বাজারে বড় অংকের বিনিয়োগ নিশ্চিত করার ওপর সর্বোচ্চ জোর দেওয়া হয়েছে।
- অর্থনৈতিক খাতের জবাবদিহিতা: কেবল সরকারি খাত নয়, বরং আন্তর্জাতিক ব্যাংক, বহুজাতিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং আর্থিক খাতগুলোকে বাধ্যতামূলকভাবে পরিবেশবান্ধব নীতিমালা ও স্বচ্ছতা কাঠামোর (Transparency Framework) আওতায় আনার প্রস্তাব পাস হতে যাচ্ছে।
উপসংহার ও গ্রিনপেজ দৃষ্টিভঙ্গি: বৈশ্বিক উষ্ণতা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে আটকে রাখতে হলে উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোকে কথার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে কঠোর কার্বন হ্রাসের পথ বেছে নিতে হবে।
গ্রিনপেজ মনে করে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই পরিবেশগত উদ্যোগগুলো যদি বিশ্বমঞ্চে সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে আসন্ন সিওপি৩১ সম্মেলনে একটি সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর বৈশ্বিক রূপরেখা পাওয়া সম্ভব হবে।
