আগামী নভেম্বর ২০২৬-এ তুরস্কের আন্তালিয়ায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতিসংঘের বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন ‘সিওপি৩১’ (COP31)-এ দেশের স্বার্থ নিখুঁতভাবে তুলে ধরতে চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু করেছে বাংলাদেশ।
৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ঢাকায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের এক উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা সভায় সিওপি৩১-এর জন্য বাংলাদেশের জাতীয় অবস্থানপত্র এবং খসড়া পলিসি পেপার চূড়ান্ত করা হয়েছে।
বিশ্বমঞ্চে জলবায়ু তহবিলের অর্থ ছাড়ের দীর্ঘসূত্রিতা কমানো এবং কার্বন নিঃসরণ হ্রাসে শিল্পোন্নত দেশগুলোর ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতা স্মরণ করিয়ে দেওয়ার বিষয়ে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকের মূল এজেন্ডা ও আন্তর্জাতিক কূটনীতি: পরিবেশ সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় আন্তর্জাতিক জলবায়ু কূটনীতিতে বাংলাদেশের দরকষাকষির কৌশলগুলো নির্ধারণ করা হয়েছে:
- লস অ্যান্ড ড্যামেজ তহবিল এবং এনডিসি ৩.০: জাতীয় নির্ধারিত অবদান বা ‘এনডিসি ৩.০’ (NDC 3.0) এবং জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা (NAP)-এর আওতায় দেশের সুনির্দিষ্ট অর্জন ও চাহিদাগুলো আন্তর্জাতিক ফোরামে উপস্থাপন করা হবে। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ডেল্টা অঞ্চলের জন্য ক্ষতিপূরণ ও সহজ শর্তের তহবিল প্রাপ্তির দাবি জোরালো করা হবে।
- এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (ADB) ও অংশীদারিত্ব: আগামীকাল থেকে রাজধানীতে শুরু হতে যাওয়া বাংলাদেশ ক্লাইমেট ডেভেলপমেন্ট পার্টনারশিপ (BCDP) নলেজ কনফারেন্সের আগে এই খসড়া রূপরেখা চূড়ান্ত করার মাধ্যমে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জলবায়ু অংশীদারিত্ব আরও সুদৃঢ় করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
উপসংহার ও গ্রিনপেজ দৃষ্টিভঙ্গি: জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ সবসময়ই জোরালো ভূমিকা পালন করে আসছে।
গ্রিনপেজ মনে করে, আন্তালিয়া সম্মেলনে আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে উন্নত দেশগুলোর কাছ থেকে জলবায়ু তহবিলের অর্থ ছাড়ের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ আদায় করতে পারলে তবেই এই বিশ্ব সম্মেলনের প্রকৃত সুফল পাওয়া সম্ভব।
