২০২৬ সালের মে মাস আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ইতিহাসে একটি বড় পরিবর্তনের সাক্ষী হয়ে থাকবে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) তাদের বহুল আলোচিত ‘কার্বন বর্ডার অ্যাডজাস্টমেন্ট মেকানিজম’ (CBAM) বা কার্বন ট্যাক্স আইনটি পুরোপুরি কার্যকর করেছে।

এই আইনের ফলে এখন থেকে ইউরোপে পণ্য রপ্তানি করতে হলে উৎপাদন প্রক্রিয়ায় কতটা কার্বন নিঃসৃত হয়েছে, তার হিসাব দিতে হবে এবং অতিরিক্ত কার্বনের জন্য শুল্ক দিতে হবে। এই নীতি বিশ্বজুড়ে ‘গ্রিন সাপ্লাই চেইনের’ এক নতুন বাধ্যবাধকতা তৈরি করেছে।
CBAM-এর মূল লক্ষ্য ও প্রভাব: ইউরোপীয় ইউনিয়ন চায় তাদের নিজস্ব শিল্পকারখানাগুলো যেমন কার্বন নিঃসরণ কমাচ্ছে, তেমনি আমদানিকৃত পণ্যগুলোও যেন পরিবেশ-বান্ধব হয়।

এই ট্যাক্সের আওতায় মূলত লোহা, ইস্পাত, সিমেন্ট, অ্যালুমিনিয়াম, সার এবং বিদ্যুৎ খাতকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যেসব দেশ এখনো কয়লা বা জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার করে পণ্য উৎপাদন করছে, ইউরোপের বাজারে তাদের পণ্যের দাম অনেক বেড়ে যাবে।
উন্নয়নশীল দেশের চ্যালেঞ্জ ও সুযোগ: বাংলাদেশ, ভারত ও ভিয়েতনামের মতো রপ্তানিমুখী দেশগুলোর জন্য এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
- কারখানার আধুনিকীকরণ: রপ্তানি বাজারে টিকে থাকতে হলে কোম্পানিগুলোকে এখন তাদের কারখানায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
- গ্রিন সার্টিফিকেশন: ২০২৬ সালের মে মাস থেকে বিশ্বজুড়ে কার্বন অডিটিং ফার্মগুলোর চাহিদা বহুগুণ বেড়েছে, যারা পণ্যের কার্বন ফুটপ্রিন্ট সার্টিফাই করছে।
ইউরোপের এই কার্বন ট্যাক্স প্রমাণ করে যে, পরিবেশ রক্ষা এখন আর কেবল একটি সামাজিক দায়িত্ব নয়, এটি আন্তর্জাতিক ব্যবসার প্রধান শর্ত। যারা যত দ্রুত নিজেদের সবুজ অর্থনীতিতে রূপান্তর করতে পারবে, তারাই ২০২৬ সালের বিশ্ব বাজারে নেতৃত্ব দেবে।
