আগামী নভেম্বর মাসে তুরস্কের আন্তালিয়ায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতিসংঘের বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন ‘সিওপি৩১’ (COP31)-এর আগে ফিজি দ্বীপে সমাপ্ত হলো প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রি-সিওপি বৈঠক।
৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত এক যৌথ আন্তর্জাতিক বিবৃতিতে বিজ্ঞানীরা ও বিশ্বনেতারা সতর্ক করে বলেছেন যে, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির হার ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ায় এবং তীব্র ‘এল নিনো’ পরিস্থিতির কারণে ধরিত্রী আজ এক চরম অস্তিত্ব সংকটের মুখোমুখি। তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রতি ১ ডিগ্রি বা এর সামান্য ভগ্নাংশও যদি নিয়ন্ত্রণ করা না যায়, তবে জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলো অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়বে।
বৈঠকের মূল পর্যবেক্ষণ ও আন্তর্জাতিক হুমকি: জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক পরিণতি তুলে ধরে এই আন্তর্জাতিক বৈঠকে বেশ কিছু কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে:
- অরক্ষিত দ্বীপ ও বদ্বীপ অঞ্চলের অস্তিত্ব সংকট: সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে প্রশান্ত মহাসাগরীয় ছোট ছোট দ্বীপ রাষ্ট্রগুলো এবং বাংলাদেশের মতো বদ্বীপ অঞ্চলগুলো আজ বিলুপ্তির পথে। প্রাক-সিওপি বৈঠকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, উন্নত দেশগুলোর পক্ষ থেকে কার্বন নিঃসরণ কমানোর বর্তমান প্রতিশ্রুতি অত্যন্ত ধীরগতির, যা এই বৈশ্বিক সংকট মোকাবেলায় একেবারেই অপ্রতুল।
- ক্ষতিপূরণ ও জরুরি অর্থায়ন: লস অ্যান্ড ড্যামেজ বা ক্ষয়ক্ষতি তহবিলের অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়া সহজ করার পাশাপাশি জলবায়ু অভিবাসনে বাধ্য হওয়া মানুষগুলোর পুনর্বাসনে উন্নত বিশ্বকে বড় অংকের আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করার জন্য জোরালো দাবি জানানো হয়েছে।
উপসংহার ও গ্রিনপেজ দৃষ্টিভঙ্গি: বিশ্ব উষ্ণতা এখন তাত্ত্বিক কোনো আলোচনার বিষয় নয়, এটি প্রতিদিন লক্ষ মানুষের জীবন ও জীবিকা গ্রাস করছে।
গ্রিনপেজ মনে করে, আন্তালিয়া সিওপি৩১ সম্মেলনের মূল মঞ্চে যাওয়ার আগে শিল্পোন্নত দেশগুলোকে তাদের ঐতিহাসিক কার্বন নিঃসরণের দায় স্বীকার করে সুনির্দিষ্ট ও কঠোর হ্রাসের চুক্তি স্বাক্ষর করতে হবে।
