দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনের সংবেদনশীল পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা এবং লাগামহীন পর্যটনের হাত থেকে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য বাঁচাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার।
১২ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু জানান যে, সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটকদের অবস্থানের মেয়াদ, দৈনিক পর্যটক চলাচলের সর্বোচ্চ সংখ্যা (কোটা) এবং পর্যটকনৌযানের জেটি বা ডকিং পয়েন্টগুলো পুনর্মূল্যায়ন করে নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে।
মূল সিদ্ধান্তসমূহ ও সেন্টমার্টিন সুরক্ষার রূপরেখা: দ্বীপের পরিবেশগত টেকসই রূপ নিশ্চিত করতে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট ও যুগান্তকারী নির্দেশনা জারি করার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে:
-
পর্যটক কোটা ও রাতযাপন নিয়ন্ত্রণ: দ্বীপে প্রতিদিন কি পরিমাণ পর্যটক গমন করতে পারবেন এবং তাদের দ্বীপে অবস্থান বা রাতযাপনের পরিধি কতটা সীমিত করা হবে, তা নির্ধারণে পরিবেশ অধিদপ্তরের বিশেষজ্ঞ দলের সুপারিশ অনুসরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
-
প্লাস্টিক ও জেটি পয়েন্ট ব্যবস্থাপনা: টেকনাফ ও কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিনমুখী জাহাজগুলোর জেটি পয়েন্ট পরিমার্জন করা হচ্ছে যাতে প্রবাল প্রাচীরের কোনো ক্ষতি না হয়। পাশাপাশি দ্বীপে অনিয়ন্ত্রিত প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করতে স্থানীয় প্রশাসন ও কোস্ট গার্ডের সমন্বয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
উপসংহার ও গ্রিনপেজ দৃষ্টিভঙ্গি: সেন্টমার্টিনের বিরল প্রবাল ইকোসিস্টেম ও সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র আমাদের দেশের এক মূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদ। গ্রিনপেজ বিশ্বাস করে, পর্যটন ব্যবসার স্বল্পমেয়াদী লাভের চেয়ে দ্বীপটির প্রাকৃতিক অস্তিত্ব রক্ষা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের এই কঠোর ভ্রমণ নীতিমালা দ্বীপটিকে স্থায়ী পরিবেশগত ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
