মানুষের তৈরি অতিরিক্ত কার্বন ডাই-অক্সাইডের প্রায় ৩০ শতাংশই শুষে নেয় মহাসাগর। এর ফলে সমুদ্রের পানির রাসায়নিক গঠন পরিবর্তিত হয়ে তা ক্রমশ অম্লীয় বা অ্যাসিডিক হয়ে যাচ্ছে।
‘ওশেন এসিডিফিকেশন’ (Ocean Acidification) নামক এই নীরব ঘাতকের কারণে বিশ্বজুড়ে প্রবাল প্রাচীর এবং খোলসযুক্ত সামুদ্রিক প্রাণীরা চরম অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়েছে।
গবেষণা ও সামুদ্রিক ইকোসিস্টেমের ক্ষতি:
- খোলস গলে যাওয়া: সামুদ্রিক ঝিনুক, শামুক এবং ছোট কাঁকড়ারা ক্যালসিয়াম কার্বনেট দিয়ে নিজেদের খোলস তৈরি করে। সমুদ্রের অম্লতা বাড়ার কারণে এদের খোলস প্রাকৃতিকভাবে গলে যাচ্ছে এবং নতুন খোলস তৈরি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
- খাদ্যশৃঙ্খলে প্রভাব: এই ছোট খোলসযুক্ত প্রাণীরা সামুদ্রিক খাদ্যশৃঙ্খলের ভিত্তি। এরা মারা গেলে বড় মাছ, তিমি এবং সামুদ্রিক পাখিরা খাদ্য সংকটে পড়বে, যা সমগ্র সামুদ্রিক অর্থনীতিকে ধসিয়ে দেবে।
মহাসাগরের অম্লতা বৃদ্ধি পৃথিবীর অন্যতম বড় পরিবেশগত বিপর্যয়। জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার শূন্যের কোঠায় নামিয়ে না আনলে ভবিষ্যতের মহাসাগরগুলো আক্ষরিক অর্থেই প্রাণহীন অ্যাসিডের জলাধারে পরিণত হবে।
