জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশে বন্যা, তীব্র নদীভাঙন, জলাবদ্ধতা, লবণাক্ততা এবং খরাজনিত সংকট দিন দিন মারাত্মক আকার ধারণ করছে। এই বহুমুখী প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদী ও সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে বর্তমান সরকার।
পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিবালয়ে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশ মিশন প্রধান জিয়ান পেসমে-এর সাথে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এই অভিন্ন কৌশলগত অবস্থান তুলে ধরা হয়।
কার্যক্রম ও কৌশলগত পদক্ষেপ: বৈঠকে দেশের জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং পানিসম্পদের টেকসই ব্যবহারের লক্ষ্যে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে:
- নদী ও খাল খনন মেগা প্রকল্প: নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখতে এবং জলাবদ্ধতা দূর করতে দেশজুড়ে নদ-নদী, খাল ও জলাশয় খনন বা পুনঃখননের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। সরকার নদীভাঙন ও বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনতে অবকাঠামোগত উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
- বিশ্বব্যাংকের সাথে অংশীদারিত্ব জোরদার: জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় বিশ্বব্যাংকের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা আরও সুদৃঢ় করার বিষয়ে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে। জিয়ান পেসমে বাংলাদেশের জলবায়ু সহনশীলতা অর্জনে বিশ্বব্যাংকের ধারাবাহিক সহায়তা অব্যাহত রাখার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
উপসংহার ও গ্রিনপেজ দৃষ্টিভঙ্গি: জলবায়ু পরিবর্তনের সম্মুখসারির দেশ হিসেবে বাংলাদেশের জন্য পানি ব্যবস্থাপনা এখন অস্তিত্বের লড়াই।
গ্রিনপেজ বিশ্বাস করে, শুধু অনুদান বা স্বল্পমেয়াদী ত্রাণ নয়, বরং নদীর অববাহিকাভিত্তিক দীর্ঘমেয়াদী ও বিজ্ঞানসম্মত পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার মাধ্যমেই কেবল দেশের প্রান্তিক জনপদ ও কৃষিকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।
