অপরিকল্পিত নগরায়ন, জলাভূমির অভাব এবং যানবাহনের অতিরিক্ত কার্বন নিঃসরণের কারণে রাজধানী ঢাকা শহর দ্রুত একটি তীব্র ‘আরবান হিট আইল্যান্ড’ বা উষ্ণ দ্বীপ অঞ্চলে পরিণত হচ্ছে।
এই ক্রমবর্ধমান উষ্ণতা ও জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক প্রভাব মোকাবিলায় গণপূর্ত অধিদপ্তর এবং পরিবেশ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো যৌথভাবে ঢাকায় তাপমাত্রা হ্রাসের জন্য বহুমুখী ও সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
পদক্ষেপ ও পরিবেশগত কৌশল:
ঢাকার তাপমাত্রা সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনতে এবং একে একটি বাসযোগ্য সবুজ নগরীতে রূপান্তর করতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ চলছে:
- পরিবেশবান্ধব নির্মাণ সামগ্রীর ব্যবহার: ভবন নির্মাণে পোড়ানোর ইট বা ট্র্যাডিশনাল ইটের ব্যবহার শূন্যের কোঠায় নামিয়ে এনে এর পরিবর্তে সলিড ব্লক, হলো ব্লক এবং পরিবেশবান্ধব অ-পোড়ানো ইট ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ভবনে হিট রেডিয়েশন কমায় এমন বিশেষ গ্লাস (যেমন- DGU এবং টেম্পার্ড গ্লাস) ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
- মেগা বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি: জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় আগামী পাঁচ বছরে দেশব্যাপী ২৫ কোটি গাছ লাগানোর জাতীয় লক্ষ্যমাত্রার অংশ হিসেবে ঢাকার বিভিন্ন সড়কদ্বীপ, ফুটপাথ ও ফাঁকা জায়গায় দেশি প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছ রোপণ করা হচ্ছে।
- ছাদবাগান ও উল্লম্ব সবুজায়ন: নতুন ও পুরনো সরকারি-বেসরকারি বহুতল ভবনগুলোতে রিউফফটপ গার্ডেনিং বা ছাদবাগান তৈরি এবং ভবনের দেওয়ালে সবুজায়নকে উৎসাহিত করা হচ্ছে, যা শহুরে তাপপ্রবাহ কমাতে দারুণভাবে কাজ করবে।
গ্রিনপেজ দৃষ্টিভঙ্গি:
সিঙ্গাপুর, সিউল বা টোকিওর মতো ঢাকাকে একটি প্রকৃতি-বান্ধব ও সবুজ নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারি এই উদ্যোগের পাশাপাশি নগরবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। দীর্ঘমেয়াদী এই পরিকল্পনাগুলোর সঠিক বাস্তবায়নই ঢাকাকে চরম উষ্ণতার হাত থেকে রক্ষা করতে পারে।
