জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বেশি অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে শিশুরা। অথচ নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় তাদের সুরক্ষাকে খুব কম সময়ই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
এই বাস্তবতায় সম্প্রতি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে পরিবেশমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু দেশের জলবায়ু কর্মপরিকল্পনায় শিশুদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
একই সাথে ইউনিসেফ বাংলাদেশের সহযোগিতায় বাস্তবায়নাধীন ‘লিড-মুক্ত বাংলাদেশ জাতীয় কৌশল ও কর্মপরিকল্পনা (২০২৬–২০৩৫)’ বাস্তবায়নের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে, যা দেশের স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষায় এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
কার্যক্রম ও শিশুদের ওপর জলবায়ু ঝুঁকির প্রভাব: সাম্প্রতিক এক আন্তর্জাতিক গবেষণার তথ্য তুলে ধরে বৈঠকে জানানো হয় যে, বাংলাদেশে প্রায় ৫ কোটি ৮৮ লাখ শিশু নানা ধরনের জলবায়ু ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছে।
দেশের প্রতি ১০ জন শিশুর মধ্যে প্রায় ৯ জন একসঙ্গে তিনটি বা তার অধিক প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হচ্ছে। এই সংকট মোকাবিলায় সরকার ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা বেশ কিছু কার্যকরী পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে:
- জেলাভিত্তিক শিশু জলবায়ু ঝুঁকি সূচক (CCRI): সরকারের অনুমোদিত তথ্যের ভিত্তিতে পরিবেশ অধিদপ্তর এবং ইউনিসেফ যৌথভাবে জেলাভিত্তিক ‘চাইল্ড ক্লাইমেট রিস্ক ইনডেক্স’ এবং শিশুদের জন্য ‘ক্লাইমেট সিনারিও অ্যানালিসিস’ তৈরির কাজ শুরু করেছে। এর মাধ্যমে দেশের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলো চিহ্নিত করে সেখানে সুনির্দিষ্ট অভিযোজন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।
- পরিবেশবান্ধব ও জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো: সরকারি স্কুল এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে ছাদভিত্তিক সোলার পাওয়ার (সৌর বিদ্যুৎ) স্থাপন এবং শিশুদের উপযোগী দুর্যোগ সহনশীল মডেল স্কুল তৈরির সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে। এছাড়া শিক্ষাক্রমের সাথে পরিবেশ শিক্ষা যুক্ত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
- সিসামুক্ত বাংলাদেশ গড়ার রূপরেখা: শিশুদের স্নায়ুবিক বিকাশ ও বুদ্ধিমত্তা সুরক্ষায় ডেকোরেটিভ রঙ ও অন্যান্য পণ্যে সিসার ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার যে প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে, তার বহুমুখী বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।
গ্রিনপেজ দৃষ্টিভঙ্গি: শিশুরা ভবিষ্যতের কারিগর, অথচ তারা জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য ন্যূনতম দায়ী নয়—বরং এর সবচেয়ে বড় শিকার। পরিবেশ রক্ষায় সরকারের এই দূরদর্শী নীতি এবং শিশুদের জলবায়ু কর্মপরিকল্পনার কেন্দ্রে রাখার সিদ্ধান্ত দেশের আগামী প্রজন্মকে একটি নিরাপদ, সিসামুক্ত ও সবুজ ভবিষ্যৎ উপহার দেবে।
গ্রিনপেজ বিশ্বাস করে, এই কর্মপরিকল্পনাগুলোর সঠিক বাস্তবায়নই একটি টেকসই বাংলাদেশ গড়ার মূল চাবিকাঠি।
