বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বলাই ও অবর্ণনীয় জীববৈচিত্র্যের আধার সুন্দরবনের প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থল রক্ষায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন।
৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের এক বিশেষ নির্দেশে সুন্দরবনের চারপাশের সংবেদনশীল ইকো-সিস্টেম জোন এলাকায় গড়ে ওঠা ১৮টি অবৈধ এবং লাইসেন্সবিহীন বাণিজ্যিক রিসোর্ট ও স্থাপনা অবিলম্বে বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অপরিকল্পিত পর্যটন এবং আইন লঙ্ঘন করে গড়ে ওঠা এসব বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের কারণে সুন্দরবনের সংবেদনশীল প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণীর চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছিল।
পরিবেশগত পদক্ষেপ ও বন্যপ্রাণীর সুরক্ষা: বন বিভাগের সাম্প্রতিক মূল্যায়নে উঠে এসেছে যে, সুন্দরবনের ঠিক কোলঘেঁষে গড়ে ওঠা এসব অবৈধ স্থাপনা বনের শান্ত পরিবেশকে নষ্ট করছে:
- শব্দ ও আলোক দূষণ নিয়ন্ত্রণ: অবৈধ এই রিসোর্টগুলোতে চলা উচ্চস্বরের মাইক, গান-বাজনা এবং রাতের ঝলমলে আলোর কারণে বাঘ, হরিণসহ বন্যপ্রাণীর প্রজনন ও স্বাভাবিক আচরণে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে। এছাড়া জোয়ারের পানির চাপে ও প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলানোর কারণে বনের ভেতরের নদীনালা ও খালের জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে।
- কঠোর আইনি পদক্ষেপ: পরিবেশ অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের যৌথ দল খুব শীঘ্রই এই রিসোর্টগুলোর বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করবে। সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সীমানা রক্ষা এবং পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (Ecologically Critical Area) আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়নের জন্য এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
উপসংহার ও গ্রিনপেজ দৃষ্টিভঙ্গি: সুন্দরবন কেবল একটি বনাঞ্চল নয়, এটি উপকূলীয় বাংলাদেশের প্রাকৃতিক ঢাল ও ফুসফুস।
গ্রিনপেজ বিশ্বাস করে, বাণিজ্যিক লাভের স্বার্থে সুন্দরবনের ইকোসিস্টেম ধ্বংসকারী এসব অবৈধ স্থাপনা চিরতরে বন্ধ করার পাশাপাশি পর্যটন নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে আরও কঠোর ও দীর্ঘমেয়াদী নীতিমালা গ্রহণ করা উচিত।
